নিজস্ব প্রতিবেদক
জয়পুরহাটের অপহরণ মামলার ভিকটিম উদ্ধারসহ প্রধান আসামিকে রংপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩
র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম নবম শ্রেনীর একজন নিয়মিত ছাত্রী। ভিকটিম স্কুলে যাওয়া আসার পথে ধৃত আসামি প্রায়ই প্রেম ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো।ভিকটিম প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে উক্ত বিষয়টি পরিবারকে জানালে বাদী ধৃত আসামিকে সতর্ক করলে আসামি বাদীর কথায় গুরুত্ব না দিয়ে ভিকটিমকে পুনরায় বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এরই জের ধরে গত ০৪/০৪/২০২৬ তারিখ সকাল ০৯.১৫ ঘটিকায় ভিকটিম প্রাইভেট পড়ার জন্য নিজ বাড়ী হতে জয়পুরহাট থানাধীন চকবরকত ইউনিয়নের কদমতলী মোড়ে পৌঁছামাত্র ধৃত আসামি এবং তার সহযোগী ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামি ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক অপহরণ করে একটি অপরিচিত সিএনজি যোগে অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ০৯/০৪/২০২৬ ইং তারিখে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০ ( সংশোধন ২০২০) এর ৭/৩০ ধারায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৩।
ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং ভিকটিম উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুর এর একটি আভিযানিক দল ইং ০৯/০৪/২০২৬ তারিখ বিকাল ০২.৪৫ ঘটিকায় রংপুর মহনগরীর কোতোয়ালী থানাধীন মধ্য পীর্জাবাধ রহমতপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জয়পুরহাট জেলার সদর থানার অপহরণ মামলার পলাতক আসামি মোঃ নাঈম ইসলাম (৩০), পিতা-মোঃ আলম হোসেন সাং-কোমরপুর, থানা-জয়পুরহাট সদর, জেলা-জয়পুরহাট'কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ভিকটিম ও আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।